চার দশকে নানা সময়ে বিচিত্র মোড় নিয়েছে সঞ্জয় দত্তর ক্যারিয়ার। লাভার বয় থেকে প্রতিনায়ক, অ্যাকশন হিরো থেকে অগ্নিপথ ও কেজিএফের মতো সিনেমায় খলনায়ক হয়েছেন তিনি। তবে এর আগেই ‘খলনায়ক’ সিনেমার কারণে সেটিই হয়ে গিয়েছিল তার নাম। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র মামলার কারণে তার ক্যারিয়ারে লেগেছিল দাগ। এর পরের ঘটনাক্রম আন্দাজ করাই যায়। একাধিক ফ্লপ ও ক্যারিয়ারে ধস। তবে দর্শক মনে রেখেছে মহেশ মঞ্জেরকার পরিচালিত ১৯৯৯ সালের ‘বাস্তব’ ও সঞ্জয় গুপ্তর ২০০২ সালের ‘কাঁটে’। কিন্তু তাতে সঞ্জয়ের ‘ব্যাড বয় ইমেজ’ আরো গেড়ে বসল যেন। রাজকুমার হিরানীর ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ দিয়ে বদলেছিল সঞ্জয়ের ইমেজ ও ক্যারিয়ার গ্রাফ। কিন্তু মজার ব্যাপার সিনেমা করার আগে স্ক্রিপ্টই পড়েননি সঞ্জয়। সিনেমার প্রস্তাব সঞ্জয়ের কাছে এনেছিলেন বিধু বিনোদ চোপড়া। সঞ্জয়ের বক্তব্য হলো, ‘বিধু আমাদের পরিবারেই একজন। সে যদি স্ক্রিপ্ট আনে তা পড়ার দরকার হয় না।’ তবে পড়েছিলেন সঞ্জয় দত্তের বোন প্রিয়া দত্ত। গ্যাংস্টার বা মবস্টার চরিত্র সঞ্জয় আগেও করেছিলেন। তাই প্রিয়ার মনে হয়েছিল এটাও তেমন কিছু হবে। তার ভাষায়, ‘‘আমি ভেবেছিলাম এটা একটা গ্যাংস্টার মুভি। সঞ্জয় আবার কোনো এক ‘ভাই’য়ের চরিত্রে অভিনয় করবে। হ্যাঁ, সেটা তো হতেই পারে।’’ কিন্তু তারা তখনো বোঝেননি, হিরানীর মুন্না ভাই আর দশজন গ্যাংস্টারের মতো না। হিরানীর লেখনি তাকে ভালোবাসার পাত্র হিসেবে রচনা করেছে। ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে সঞ্জয়ের ইমেজ বদলে দিয়েছিল চরিত্রটি। এক সাক্ষাত্কারে সঞ্জয় দত্ত নিজেও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আজো আমার এ সিনেমা ও চরিত্রটি নিয়ে দর্শকের ইতিবাচক মনোভাব আমাকে আনন্দ দেয়। খুব কম অভিনেতাই এমন একটি সুযোগ পায়। সত্যি বলতে, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন উভয় ক্ষেত্রেই মুন্না ভাই আমার ইমেজ বদলে দিয়েছে।’ মুন্না ভাইয়ের পর সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে বলিউড। নব্বইয়ের সঞ্জয় না, দর্শক নতুন নতুন চরিত্রে তাকে চাইতে শুরু করল এবং প্রযোজক পরিচালকরাও সে চেষ্টা করেন। একে পুনরুত্থান বললে ভুল হয় না। অন্যদিকে সিনেমাটি দর্শকের পাশাপাশি সমালোচকরাও পছন্দ করেছিলেন। সরল কিন্তু সবল চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের কারণে তারা বাহবা দেন। ১০ কোটি রুপিতে নির্মিত সিনেমাটি আয় করেছিল ৪১ কোটি রুপি।তবে হিরানী ও সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ উঠেছিল। সঞ্জয়ের জীবনীভিত্তিক ‘সাঞ্জু’ নির্মাণ করে তারা নাকি সঞ্জয়ের ইমেজ ঠিক করতে চেয়েছিলেন। সঞ্জয় এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি এটুকুই বলতে চাই যে মুন্না ভাইয়ের মাধ্যমে একটা ইমেজ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ৩০-৪০ কোটি রুপি খরচ করে আবার সেটা করার তো প্রয়োজন নেই। আমি শুধু সত্যটা জানিয়েছি আর ভারত সেটা মেনেও নিয়েছে। বক্স অফিসের আয় তো তাই বলে।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Most Popular
নিজেকেই স্যাটিসফায়েড করতে চাই
একটা কথা আজকাল শোনা যায়, ‘আমাদের গল্পে আমাদের স...
নিজেকেই স্যাটিসফায়েড করতে চাই
বাংলা চলচ্চিত্রের শুদ্ধ মানুষ
২০১৮ বিশ্বকাপে মেসি আর বর্তমান আর্জেন্টিনার মেসি এক নয়,
বিধ্বস্ত মেসিকে খুব কমই দেখ...