দেশজুড়ে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

হাম কী?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।
আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।   

প্রধান লক্ষণ
উচ্চ জ্বর
সর্দি ও কাশি
চোখ লাল হয়ে যাওয়া
শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া
দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা

সম্ভাব্য জটিলতা
নিউমোনিয়া
ডায়রিয়া
কানের সংক্রমণ
মস্তিষ্কে প্রদাহ (বিরল ক্ষেত্রে)
অপুষ্ট শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ 

সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ
অনেক শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত।
টিকাদান সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।
কিছু এলাকায় টিকাদানের হার কমে যাওয়া। 


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা টিকা দিতে হবে।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে।
নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


করণীয়
টিকাদান শতভাগ নিশ্চিত করা।
হামের লক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
শিশুদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।


 বিশেষজ্ঞদের মতামত
হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা হলো টিকাদান।

সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি
হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শিশুদের টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব ঝুঁকিতে থাকা সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষ প্রস্তুতি
হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংক্রমণ পর্যবেক্ষণে নজরদারি বৃদ্ধি
হামের বিস্তার রোধে সরকার নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। কোন এলাকায় কতজন আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সরকার বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। অভিভাবকদের সন্তানদের টিকা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।