নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার ৭ই জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত বলেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল, যার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। জবানবন্দিতে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। এছাড়া, ঘটনার পর তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। আদালত উল্লেখ করেন, আসামিরা তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি এবং উভয়েই একই অপরাধে সমানভাবে দায়ী।
রায়ে বিচারক আরও বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হলে পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারকাজ মাত্র চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরে ১ জুন মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন রামিসার পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।