আনন্দবাংলা
আনন্দবাংলা
আপডেট : সোমবার ২২শে জুন ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুক হামলা: তিন শিক্ষার্থী নিহত, আহত ৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিপাইনের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। সোমবার সকালে দেশটির লেইতে প্রদেশের তাকলোবান শহরের স্যান হোসে ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর স্কুল প্রাঙ্গণে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় এবং আহত হয় আরও পাঁচজন।
ঘটনার পরপরই হামলাকারী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ লেফটেন্যান্ট ইভালিন দিয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের বুলিং বা নিপীড়নের ঘটনা এই হামলার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা চিৎকার করছে এবং নিরাপত্তার জন্য শ্রেণিকক্ষে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এএফপি ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো স্কুলে আনা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু অভিযুক্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আহত পাঁচ শিক্ষার্থীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ ‘উচ্চ মাত্রার সতর্কাবস্থা’ জারি করেছে। এক বিবৃতিতে বিভাগটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
ফিলিপাইনের স্কুলগুলোতে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২২ সালে রাজধানী ম্যানিলার আতেনেও দে মানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় এক সাবেক মেয়রসহ তিনজন নিহত হন।
দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের বেচাকেনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও কালোবাজারে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সহজেই পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়।