(মোঃ মামুন হাসান) সিনিয়র তথ্য অফিসার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
(মোঃ মামুন হাসান) সিনিয়র তথ্য অফিসার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
আপডেট : সোমবার ২২শে জুন ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ক্যাপশন নেই
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। শিল্পবর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে নিঃসরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশসহ দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ জেলে দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও জানান, ইলিশসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ফলে দেশের ইলিশের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর আগ্রহ রয়েছে। তিনি ইলিশকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করার আহ্বান জানান।
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণায় বিনিয়োগ ছাড়া বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইলিশ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলেদের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেও সরকার কাজ করছে।
কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক-এর সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।