আনন্দবাংলা
আনন্দবাংলা
আপডেট : সোমবার ২২শে জুন ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ক্যাপশন নেই
বুর্গেনস্টক, সুইজারল্যান্ড: মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনার শুরুতে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে এগিয়েছে।
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’-এ সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডের পার্বত্য রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
মধ্যস্থতাকারীদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবাননের সংঘাত নিরসনে একটি বিশেষ প্রক্রিয়া চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে দুই পক্ষ।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স রোববার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানো। বৈঠকটি সোমবার ভোররাত পর্যন্ত চলে।
আলোচনা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, তার দেশ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদের একটি অংশ ছাড় এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালুর বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তবে আলোচনার ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।
এর আগে বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি যদি আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে, তাহলে এর কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে এবং সেখানে নিজস্ব টোল ব্যবস্থা চালু করতে পারে।
বৈঠক ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের দাবি, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনার কক্ষে ফিরতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্তা বিনিময় অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে, আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনা থেকে সরে যাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাত পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি, পারমাণবিক ইস্যু এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ইরান আলোচনার আগে জানিয়ে দেয়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো চুক্তির শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সোমবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা আরও কয়েকদিন সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করবেন।
এদিকে লেবাননে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ইসরায়েলি হামলা ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পর রোববার তুলনামূলক শান্ত একটি দিন কাটিয়েছে লেবানন। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে ঘরছাড়া মানুষের বাড়ি ফেরার দৃশ্য দেখা গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। ইরান প্রণালি বন্ধের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে। তবে শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে দেখা যায়, রোববার প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকটি চূড়ান্ত কোনো সমাধান না আনলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের কারিগরি আলোচনা এবং ৬০ দিনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে।